বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ০১:৫৫ অপরাহ্ন
অনুসন্ধান২৪>>প্লট দুর্নীতির আরেক মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এবার তার বোন শেখ রেহানা এবং রেহানার মেয়ে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিককেও দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিয়েছেন আদালত। এ নিয়ে যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ড-ওয়েলসের প্রাকটিসিং ব্যারিস্টার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তারেক বিন আজিজ বলেছেন, ব্রিটিশ এমপি ও সাবেক মন্ত্রী টিউলিপের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আদালতের এই রায় ব্রিটেনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হওয়ার সুযোগ নেই। তবে এটি রাজনৈতিকভাবে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আদালতের রায় যুক্তরাজ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কারণ, দুই দেশ দুটি পৃথক জুরিসডিকশন। তাই বাংলাদেশের কোনো রায় যুক্তরাজ্যে বাস্তবায়ন করতে হলে ব্রিটিশ আইনের আলোকে রায়ের এনফোর্সেবিলিটি আগে এখানে প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যা একটি দীর্ঘ ও জটিল আইনি প্রক্রিয়া। তবে এ ধরনের রায় একটি মাইলস্টোন এবং এর রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব যুক্তরাজ্যে পড়তে পারে। যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা সংস্থা চাইলে তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং বা অন্যান্য অভিযোগ পুনরায় তদন্ত করতে পারে। যদি এসব তদন্তে ব্রিটিশ আইনে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়, তাহলে ব্রিটিশ আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, এমনকি এমপি পদ হারানোর ঘটনাও ঘটতে পারে।
এদিকে বাংলাদেশে টিউলিপ সিদ্দিকের সাজা হওয়ার ঘটনা নিয়ে যুক্তরাজ্যের মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোয় গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় তার এই সাজা ভোগ করার সম্ভাবনা কম বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনগুলোতে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি শিরোনাম করেছে ‘টিউলিপ সিদ্দিক এমপিকে বাংলাদেশে কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছে তার অনুপস্থিতিতে’। বাংলাদেশে তার অনুপস্থিতিতে বিচারে লেবার এমপি ও সাবেক মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের দুই বছরের কারাদণ্ড হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
এতে বলা হয়েছে, রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠে তার পরিবারকে একটি প্লট দিতে খালা বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর প্রভাব বিস্তারের জন্য টিউলিপকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। এ অভিযোগ তিনি জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন।
বিবিসি বলেছে, লন্ডনে অবস্থানরত টিউলিপ সিদ্দিক তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তাকে এই সাজা ভোগ করতে হবে বলে মনে হয় না। এক বিবৃতিতে টিউলিপ এই বিচারপ্রক্রিয়াকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ‘ত্রুটিপূর্ণ ও প্রহসনের’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
যুক্তরাজ্যের আরেক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট শিরোনাম করেছে ‘বাংলাদেশে দুর্নীতির জন্য লেবার এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে’। বাংলাদেশে একাধিক মামলার আসামি হওয়ার পর টিউলিপ সিদ্দিকের গত জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সরকারের ‘সিটি মিনিস্টারের’ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
যুক্তরাজ্যের আরেক সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনের শিরোনাম করা হয়েছে ‘বাংলাদেশে দুর্নীতির জন্য টিউলিপ সিদ্দিকের দুই বছরের কারাদণ্ড’। এর প্রতিক্রিয়ায় টিউলিপ বাংলাদেশের এই আদালতকে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ আখ্যায়িত করে রায়কে নাকচ করেছেন বলেও প্রতিবেদনে ফলাও করে প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে এ মামলা ও রায়সংক্রান্ত নানা তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি বলা হয়েছে, টেলিগ্রাফ এমন সব নথিপত্র দেখেছে, যাতে টিউলিপ সিদ্দিকের বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র ছিল বলে মনে হয়েছে, যা তার আগের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অবশ্য যুক্তরাজ্যের এই এমপি বৃহস্পতিবার বলেছেন, তাকে দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি হিসাবে তুলে ধরার জন্য জালজালিয়াতি করে এসব কাগজপত্র তৈরি করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান ‘বাংলাদেশের আদালতে যুক্তরাজ্যের এমপি টিউলিপকে দুই বছরের কারাদণ্ড’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টিউলিপের পারিবারিক সম্পর্ক, নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর শেখ হাসিনা সরকারের ১৫ বছরে সংঘটিত দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার দ্রুত করতে রাজনৈতিক ও জনমতের চাপ, গত বছর অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত মাসে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়া, গতকালের রায় ঘোষণার পর টিউলিপের প্রতিক্রিয়া, লেবার পার্টির প্রতিক্রিয়া, এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের সাবেক বিচারমন্ত্রীসহ একদল খ্যাতিমান আইনজীবীর উদ্বেগ প্রকাশসহ নানা বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।